1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Bangla News1 : Bangla News1
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

স্বপন হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূলহোতা মহসিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, আতংকে গ্রামবাসী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৭ বার পঠিত

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়ার বিলে রাতের আধারে স্বপন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। অবশেষে দীর্ঘ দুইমাস পর হত্যার রহস্য উদঘাটন  করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডি পুলিশ। শফিকুল ইসলাম হৃদয় নামে এক মুরগী ব্যবসায়ীকে সিআইডি পুলিশ আটক করে (২০ শে) আগস্ট  জেলা বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করলে সে তার জবানবন্দিতে হত্যার পুরো ঘটনার স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এ ঘটনা জানার পর থেকে বাহিনীর প্রধান মহসিনসহ তার লোকজন গ্রামে আতংক ছড়ানোর জন্য গত (২৯ শে)  আগস্ট রাত ৮ টার দিকে হাবলাউচ্চ গ্রামের সাবেক মেম্বার ফখরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করে। এসময় তারা মেম্বারসহ ঐ গ্রামের আশ্রাফ আলীর ছেলে স্বাধীন মিয়া ও এলেম মিয়ার ছেলে ইমরান মিয়াকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে আদালতের মামলার নথি মূলে জানা যায়, আসামী হৃদয় স্বীকারোক্তি মূলক জবাবন্দিতে বলেন, স্বপন মিয়া মহসিন মামাদের বাড়ি সামনে পুকুর পাড়ে টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে বাস করতেন। হাবলাউচ্চ, বিরামপুর, শিলাউর ও ঈশাননগর গ্রামে রাজনৈতিক কারণে দুটি গ্রুপ ছিল। একটি গ্রুপের লিডার ছিলেন মহসিন মামা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছেন তিনি। নৌকার প্রতীকের প্রার্থী  শেখ ওমর ফারুকের কাছে হেরে যাওয়ার পর থেকে বিজয়ী চেয়ারম্যানের সমর্থিত লোকজন যাতে এলাকা ছাড়া হয় সেজন্য মহসিন মামা ও ফরিদ মিয়া সিদ্ধান্ত নেয় নিজেদের কাউকে মেরে বিরোধী গ্রুপকে ফাঁসাবে। গত ২৬/০৫/২১ ইং তারিখ মহসিন মামার কথায় আমি রাত অনুমানিক সাড়ে দশ ঘটিকার সময়  তাদের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে তার ভাই কাউছার, এখলাছ ও অন্য তিনজন শরীফ,মোতাহার পাঠান, আজগর  কে আলাপরত অবস্হায় পাই। পরে এই  ৫ জনের সাথে আমাকে বার আউলিয়ার বিলে স্বপনের কাছে যেতে বলে। রাত অনুমানিক ১১টার দিকে তাদের সাথে আমি বার আউলিয়ার বিলে যাই।  তারা পাঁচজন বিলে পানিতে নেমে পড়ে, তখন আমি আমার মোবাইল নিয়ে পাড়ে ২০/২৫ মিনিট ব্যস্ত ছিলাম। পরে শরীফ ভাইসহ অন্য চারজন এসে বলে চল বাড়িতে চলে যায়, কাজ শেষ হয়ে গেছে। পরদিন সকাল ১০ টায় স্বপনের লাশ পাওয়া যায় নৌকার উপরে।
এদিকে, হামলায় আহত সাবেক মেম্বার ফখরুল ইসলাম বলেন, মহসিনের নির্দেশে তার লোকজন গ্রামবাসীকে ফাঁসানোর নিরীহ স্বপনকে নিজেরা বিলে হত্যা করে। এখন তারা ফেঁসে যাওয়ায় আবার গ্রামে আতংক ছড়ানোর সন্ধ্যার পর থেকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। বিনা কারণে আমার বাড়িতে হামলা করেছেন এবং আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছে। গ্রামের শান্তি নষ্ট করার জন্য মহসিন যে সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছে যদি প্রশাসন তাদের স্বপন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার না করে তাহলে সাধারন মানুষ তাদের ভয়ে গ্রামে থাকতে পারবেন না।
মহসিন বাহিনীর হামলার শিকার হাবলাউচ্চ গ্রামের স্বাধীন মিয়া বলেন, আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য হামলা করা হয়েছিল। আমার পাঁয়ে ও কোমরে আঘাতের জখম আছে। পুলিশ প্রশাসন যদি স্বপন হত্যার দায়ে মহসিনসহ  তার বাহিনীর লোকদের গ্রেফতার না করেন তাহলে সাধারন গ্রামবাসীর আতংক কমবে না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বাহিনীর প্রধান মহসিনের কাছে মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, স্বপন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ৮/৬/২০২১ ইং তারিখে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডি পুলিশ স্হানান্তর হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..