1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Bangla News1 : Bangla News1
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

মরুর ফল ‘সাম্মাম’ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়

জনিফার পলি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৩ বার পঠিত

মরুর দেশ সৌদি আরবের ফল ‘সাম্মাম’ চাষ হচ্ছে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন গলিয়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে। এই গ্রামের কাজী আনোয়ার তার প্রবাসী এক বন্ধুর মাধ্যমে বিদেশ থেকে বীজ আনিয়ে সৌদি আরবের ফল ‘সাম্মাম’ চাষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।পরে ইন্টারনেট ও স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষ করেছেন তিনি। প্রথমবার এই ফল চাষ করে বেশ সাফল্যও পেয়েছেন অনোয়ার।

কৃষক কাজী আনোয়ার  তার নিজ গ্রাম গলিয়ারা ইউনিয়নের বলরামপুরে ৪০ শতক জমি জুড়ে সাম্মাম চাষ করেছেন।পাকলে হালকা হলুদ ঢোড়াকাটা রংয়ের এই ফলটি খেতে মিষ্টি। পুষ্টিগুণে ভরপুর বিদেশি এই ফল চাষ এই এলাকায় নতুন হাওয়ায় প্রতিদিন তার ক্ষেত দেখতে আসছেন আশপাশের কৃষক। অনেকে আবার আগামীতে নতুন জাতের এ রসালো ফল চাষাবাদের জন্য পরামর্শও নিচ্ছেন কাজী আনোয়ারের কাছ থেকে।

‘সাম্মাম’ চাষী আনোয়ার কুমিল্লানিউজওয়ানকে বলেন, আমি প্রথমে কালো তরমুজ ও হলুদ তরমুজ চাষ করি তখন অনেক সাড়া পেয়েছি তাই মরুর ফল সাম্মাম চাষে উদ্ভুত হই। বিদেশ থেকে বন্ধুকে ফোন দিয়ে এই সাম্মাম বীজ পাঠানোর জন্য বলি, আর এই বীজ পাঠানোর পর আমি সংহগ্রহ করি। পরে আমি ইউটিউব থেকে এটি কীভাবে চাষ করে সেটা জানলাম। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।

চাষ সম্পর্কে কাজী আনোয়ার কুমিল্লানিউজওয়ানকে বলেন, দোঁয়াশ মাটিতে সাম্মাম চাষ করা ভালো। মাটি ভালোভাবে চাষ করে বেড এবং নালা করে, মালচিং দিয়ে এ ফলের চাষ করতে হয়। তাহলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি খুবই অল্প সময়ের ফসল। গাছ লাগানোর দেড় মাসের মধ্যেই হয় সাম্মাম ফল।

সাম্মাম ফল খুবই পুষ্টিসমৃদ্ধ। বহির্বিশ্বে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে এটির প্রচলন এখনো কম। এ ফল সৌদিতে সাম্মামসহ বিভিন্ন দেশে রক মেলন, সুইট মেলন, মাস্ক মেলন, হানি ডিউ নামে পরিচিত। এই ফল মুলত দুই জাতের হয়ে থাকে। একটি জাতের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরের অংশ হলুদ, আরেকটি জাতের বাইরের অংশ হলুদ এবং ভেতরের অংশ লাল। তবে খেতে দুই ধরনের ফলই খুব মিষ্টি ও রসালো।

আনোয়ার কুমিল্লানিউজওয়ানকে বলেন, প্রথমবারের মতো এ ফলের চাষ শুরু করেছি। বুঝতে না পারায় হয়তো আমার লস হতে পারে, কিছু ফলের মধ্য পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে এবং ফল ফেটে যাচ্ছে আর গাছের ঢগা ও আগা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ইউটিউবের মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কেউ আমার ফোন দরেনি আর আমাকে সাহায্যও করেনি।

৪০ শতক জমিতে আমার ৩ হাজার সাম্মাম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে ২-৩টি করে ফল রয়েছে। বেশি ফল রাখলে ফলন কম হয়। একেকটি ফলের ওজন হয় ২ থেকে তিন কেজি। প্রতিটি গাছেই ফল বেশ ভালো এসেছে। ৪০ শতক জমিতে আমার খরচ হয়েছে প্রথমবার হওয়ায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। আগামীতে খরচ কম হবে। আশা করছি প্রথমবার না বুঝে চাষ করেছি হয়ত লস হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু এই ফল কাঁচা-পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়, সেজন্য কীটনাশকের পরিবর্তে ফেরামন ফাঁদ, আগাছা যাতে না হয় এজন্য মালচিং দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করছি।

বিদেশি এ ফল অধিক লাভজনক উল্লেখ করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা …..জানান,  সাম্মাম বিদেশি ফল তবে আমাদের কুমিল্লাতেও চাষ করা হচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে আমাদের আবহাওয়া জলবায়ুতে তা খাবখায়ে যাবে। কৃষক কাজী আনোয়ারকে আমরা চাষে পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছি। আগামীতে এ চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকরা সহায়তা পাবে বলেও আশা করেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..