1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Bangla News1 : Bangla News1
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

বাঁশখালী হত্যাকাণ্ড- মেনে নেওয়া হবে শ্রমিকদের দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৪ বার পঠিত

বাঁশখালীর গন্ডামারায় এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে পাঁচ শ্রমিক নিহতের পর আন্দোলনরতদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে তিন লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোমিনুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে তিন লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই হতাহতদের পরিবারের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে বৈঠকে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক। কমিটিতে পুলিশের একজন, কলকারখানা অধিদফতর থেকে একজন এবং বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোমিনুর রহমান  বলেন, ‌‌‘বাঁশখালীর ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে একই ঘটনায় ডিআইজি কার্যালয় থেকেও ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, বাঁশখালীর ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাশেন ও ক্রাইম) জাকির হোসেন খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) নেছার উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) কবির হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। তারা সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

এর আগে, শনিবার সকালে ১০ দফা দাবিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকরা সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের অতিউৎসাহী অবস্থনাকে দায়ী করেছেন। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত হন। এতে আরও অন্তত ২৫ জনের মতো আহত হন। আহতদের মধ্যে পুলিশের তিন সদস্যও রয়েছেন। তাদের শরীরে ইট-পাথরের আঘাত রয়েছে।

নিহতরা হলেন- কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদেও ছেলে মাহমুদ হাসান রাহাত (২২), চুয়াডাঙ্গার অলিউল্লাহর ছেলে মো. রনি হোসেন (২৩), নোয়াখালীর আব্দুল মতিনের ছেলে মো. রায়হান (১৯), চাঁদপুরের মো. নজরুলের ছেলে মো. শুভ (২২) এবং বাঁশখালীর পূর্ব বড়ঘোনার আবু ছিদ্দিকির ছেলে মাহমুদ রেজা (১৯)।

অন্যদিকে চমেক হাসপাতাল চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম (২৫), মো. আমির (২৪), মো. দিদার (২১), মো. বিল্লাল (২৬), মো. আযাদ (১৮), মো. কামরুল (২৬), শিমুল (২৮), শাকিল (২৩), মোরাদ (২৫), মিজান (১৮), রাহাত (২৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), হাসান (৪০), অভি (২০), মো. ইয়াসির (২৪), আহমদ কবির (২৬) ও আসদুজ্জামানের নাম পাওয়া গেছে।

আহতদের মধ্যে ইয়াসির, কবির ও আসাদুজ্জামান পুলিশের সদস্য। তারা তিন জন গন্ডামারা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন।

ঘটনার পর এ বিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিএফও এবাদত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিএফও এবাদত হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এসএমএস দিয়েও তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..