1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Bangla News1 : Bangla News1
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

করোনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী, পুরোপুরি সারে না ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩১ বার পঠিত

গত বছরের ১ জুন নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সেখানে পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। চিকিৎসায় করোনা থেকে সেরেও ওঠেন তিনি। তবে করোনা পরবর্তী জটিলতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন গত ১৩ জুন।

এর আগের রাতে (১২ জুন) মোহাম্মদ নাসিমের জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ও  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছিলেন, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় নতুন করে হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আগে এই সমস্যা ছিল না।

গত দুই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বিএম আব্দুল্লাহর স্ত্রী মাহমুদা বেগম মারা যান। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, করোনা থেকে সুস্থও হয়ে ওঠেন। কিন্তু পোস্ট কোভিড সিন্ড্রোম বা করোনা পরবর্তী জটিলতায় তিনি মারা যান।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো কোনও অসুখ ছিল না।

‘তার কিছুই ছিল না, নরমাল ছিল। বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর, এটা করোনা পরবর্তী জটিলতা, আর কিছু নয়।’

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, মাহমুদা প্রথমে পজিটিভ হয়ে পরে নেগেটিভ হন। কিন্তু ততদিনে সেটা জটিল হয়ে গেছে, তার শ্বাসের সমস্যা হচ্ছিল। ওষুধ দেওয়া হলো, কিন্তু ফুসফুস ড্যামেজ হয়ে গেল। কোনও ওষুধ ধরছিল না।

গত ১১ জানুয়ারি ইউনির্ভাসেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। করোনা থেকে সুস্থও হয়ে ওঠেন। করোনা পরবর্তী জটিলতায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীস কুমার চক্রবর্তী।

ডা. আশীস কুমার চক্রবর্তী   বলেন, তিনি প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তার পোস্ট কোভিড কমপ্লিকেশন দেখা দিয়েছিল। তাতে তার রেসপিউরেটরি মাসেলসগুলোর শক্তি কমে যায়, যার ফলে শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা থেকে অনেকেই সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু যে কয়দিন তিনি আক্রান্ত থাকেন সেসময় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেউ সামলে উঠতে পারেন, কেউ পারেন না। যে কারণে কেউ করোনা থেকে নেগেটিভ হওয়ার পরও করোনা পরবর্তী জটিলাতায় মারা যাচ্ছেন। আবার কারও কারও শরীর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে, তিনি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের এমন কোনও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যেখানে করোনাভাইরাস ক্ষতি করে না। করোনার অনেক জটিলতা হয়, অনেকেই মারা যান করোনা পরবর্তী জটিলতায়। কারও শরীর খুব খারাপ হয়ে যায়, এভাবেই মন্তব্য করে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘করোনা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতি করে ফেলে।’

করোনা হয়ে করোনার অভিঘাতেই মৃত্যু হচ্ছে মন্তব্য করেছেন মহামারি বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন।

তিনি বলেন, বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই করোনা ১০ দিন পর নেগেটিভ হয়ে যায়। কোভিড পরবর্তী সমস্যায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমসহ যারা মৃত্যুরবণ করেছেন তারা সবাই নেগেটিভ হয়েছিলেন। তবে করোনা শরীরের যে ক্ষতি করে, সেই ক্ষতি যারা সামলে উঠতে পারে না, তারা আরও অনেক পরেও মৃত্যুবরণ করতে পারেন।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কোভিড শরীরের সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে, কোনোটা বাকি নেই। কেবল শ্বাসতন্ত্র নয়, শ্বাসতন্ত্র থেকে শুরু করে লিভার, হার্ট, যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের ডায়াবেটিস হয়ে যাওয়া, কিডনি, মস্তিষ্ক, হৃদপিন্ড প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, শরীরের সব জায়গাতে ব্লাড সার্কুলেশন হয়, কিন্তু যখন রক্ত জমাট বেঁধে যায় তখন যেসব জায়গাতে রক্ত আটকে যেসব জায়গা পচে যায়, তখন সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘শরীরে করোনার ভাইরাস বেঁচে থাকে ১০ দিন, কিন্তু সে ১০ দিনে করোনা যে ক্ষতি করে তার ইফেক্ট অনেক পরেও হতে পারে’, যোগ করেন তিনি।

আর এই কারণেই কোভিড থেকে যারা সেরে উঠেছেন, তারা নানাবিধ অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছেন, ‘লং কোভিড’ অর্থ্যাৎ এগুলোই কোভিডের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া, বলেন তিনি।

আর এসব মৃত্যু অবশ্যই করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বলে বিবেচিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ল্যাবরেটরি কনর্ফাম হচ্ছেন, তাদের তথ্য রয়েছে। কাজেই তারা পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে মারা গেলে সেসব মৃত্যু অবশ্যই কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধরা হবে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম  বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার পর বেশকিছু জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেগুলো নিয়ে খুব একটা আলোচনা হচ্ছে না।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা পরবর্তী জটিলতা নিয়ে আমাদের দেশে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। যেটা হওয়া উচিত, তাহলে অনেকেই তার অধীনে চিকিৎসা নিতে পারবেন, তাতে করে সুফল আসতে পারে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..